12 August 2017

লেপ্যটিস মাগনা - খ্যাত দেশে মার্সেনাড়ী 
(Mercenary - A  professional soldier hired to serve in a foreign army.)

জীবন একটা বড়ই বিচিত্র এক টা বিশাল খালি ক্যানভাস - জীবনের যাত্রার এই পথে পথে বিভিন্ন সাক্ষর গুলো আস্তে আস্তে ক্যানভাস টাকে পরিপূর্ণ করতে থাকে শিল্পীর রঙে ভেজানো তুলির কখনো শক্ত আবার কখনো মোলায়েম স্পর্শে

জীবন মনে হয় এক ধরনের পরিপূর্ণটা পায় বিচিত্র তাতে এক ঘেয়েমি নিছক জীবিকা নির্বাহের জন্য জীবন যাপন  করায় নাই কোন রকম অ্যাডভ্যানচার আজানা অচেনা জায়গা, শহর, দেশ, মহাদেশ এই সব এর প্রতি আকর্ষণ সবার থাকে না টা টা কাজ - রাতে টায় ঘুমিয়ে পড়া - সকালে তাহাজ্জুদের নামাজের আগে উঠে তামাইম্মুম করে নামাজ পড়ে ফজরের আজানের আগ পর্যন্ত তসবিহ জপা সবার দ্বারা সম্ভব নয়

দুপুরে করা রৌদ্র সেদিন মাস টা এপ্রিল কালো পিচের টারমার্কে চিক চিক করছে রোদ - চেক ইন করে বলাকা লাউঞ্জে বসে বসে অপেক্ষায় প্লেনে উঠার জন্য ব্রিটিশ এয়ার ওয়েজ এর ঢাকা - বম্বে ফ্লাইট   টা ৫৫ তে টেক অফ করবে প্যাসেঞ্জার এক দম কম একা একা বসে থাকা আর কফির ক্যাপে হাল্কা কয়েক টা চুমুক দিয়েই বিতৃষ্ণা লাগল উঠে যেয়ে রান ওয়ের দিকের ক্যানটিলিভার বারান্ধায় দাঁড়িয়ে  একটা সিগারেট ধরিয়ে টানতে লাগল মহা সুখে


মাস খানেক আগে অবসারভার পত্রিকায় এক কলাম - ইঞ্চি একটা বিজ্ঞাপন ‘' দোভাষী প্রয়োজন ( ইন্টারপ্রেটআর আবশ্যক ) ‘' বিদেশী নাগরিকের জন্য এক জন দক্ষ বাংলা এবং ইংরেজি  ভাষায় কথোপকথন - লিখিত অনুবাদ করতে জানে  এমন একজন দরকার ; গাড়ী চালাতে জানা আবশ্যক পার্ট টাইম আপাততঃ বেতন আলোচনা সাপেক্ষে ; যোগাযোগ করুন অতি সত্তর  টেলিফোন ৬০০০৬০ জাতিও একটা নাম্বারে   প্রবাস অফিস থেকে বিকালে ফোন গুড়ানো - পরদিন বিকালে সাক্ষাত এবং চাকরি ফুল টাইম পাক্কা হয়ে গেল কিন্তু বলা যাবে না কাউকে  

বিশাল অফিস গুলশান এভেনুর শেষ মাথায় প্রায়তিন তলায় - একটা দূতাবাস ; স্বপ্ন বিলাসী মাসিক বেতন তা আবার বিদেশী মুদ্রায় পোয়াবার আর কাকে বলে চাকরী না পাড়ে ভাল ইংরাজি আর বাংলা তো প্রশ্নই উঠে না ; কিন্তু বাংলাদেশের সব কিছু জানে বাঙ্গালদেশিদের চেয়েও অধিকতর  

প্রথম সাক্ষাতেই কুপোকাত - আমাকে বেশ পছন্দ করে ফেলল - বলল আগামী মাসের তারিখ থেকে যোগদান করার জন্য আর কয়েক টা আনুশাংগিক  কাগজ পত্র এবং পাসপোর্ট চাইলো - ভাগ্য ভালো তাড় কয়দিন আগেই ছাত্র থাকাকালীন সময়ের পাসপোর্টটা রিনুই করেয়েছিলাম লন্ডন চলে যাবার জন্য -




দোভাষী এই চাকরীটা পাবার আগে একদিন বন্ধুর অফিসে বসে বসে ভাবছিলাম - কি কি প্রফেশনে আমি অ্যাডজাস্ট করবো ভালো  

হটাত  ফোন ঘুরালাম আদমজী কোর্টের আমেরিকান এম্বাসসিতে - ছাইলাম মিলিটারি উপদেষ্টা কে লে কর্নেল ডবলু গ্লাস ইউ এস মেরিন কোরের ওরে বাবা কি যে প্রতিরক্ষা বুজ্ঝ পাড় হতে হলও তাড় সাথে দেখা করতে - নিজ হাঁতে কফি বানিয়ে পরিবেশন করলো - মনে মনে ভাবলাম বাংলাদেশের লে কর্নেল আর ওদের লে কর্নেল - ! মন্তব্য নিষ্প্রয়োজন বৈ আর কিচ্ছু বললে বেলাস্ফেমি জাতীয় অপরাধ হয়ে যেতে পাড়ে

বললেন কি চাই - উত্তরে বললাম আমার একটা চাকরী দরকার - এক্সেস কন্ট্রোল তখন ওরা ম্যানেজার হিশেবে ইন্টার্ভিউ নিচ্ছিল - হেড অফ চাঞ্ছেরির সাথে কথা বলে সঙ্গে সঙ্গে সব বেবস্থা হয়ে গেল ইন্টার্ভিউ এর খুবই ডাউন টু আর্থ জাতীয় একজন কর্নেল গ্লাস আমাকে বেশ পছন্দও করে ফেললেন প্রথম দেখাতেইঈশ  তখন  যদি  ঢাকায় মোবাইল ফোন থাকত


তিন দিন পড় একটা চিঠি পেলাম - আমাকে দেখা করতে অনুরধ করা হয়েছে ; হেড অফ চেঞ্ছারির কথা শুনে আমার চোখ চরক গাছে - উনি বললেন  ‘' মিস্টার ছধরি উই আর ওভার কয়ালিফায়েড ফর দ্যা পোস্ট ‘' ইয়োর নলেজ ফর দিস পোস্ট ঈশ ফার টু হাঁই ‘' গোবেচারার মত ফ্যালফ্যাল করে ওর দিকে তাকিয়ে একটা শুষ্ক হাস্য উপহার দিলাম ; আমার কাষ্ঠ হাসি দেখে সে অবাক হয়ে বলল - কিন্তু আমাদের কাছে অন্য আরেক টা পোস্ট আছে হুইসচ কুড বে মোর আপ্প্রপ্রিয়েট ফর ইয়উ


মগবাজারের অফিসে সেন্ট্রাল স্টোরের এর কন্ট্রোলার - হাহাহা আবার কোয়ার্টার মাস্টারি বললাম আমি একটু চিন্তা করে নেই পড়ে জানাব স্টোর - বদ্ধ ঘর, অন্ধকার, সোঁদা গন্ধ , আইলের মধ্যে হাঁটাচলা করা এইসব জায়গায় আমি কেমন জানি কলস্তফভিয়া তে ভুগি শ্বাস প্রশ্বাস কেমন জানি জড়তা জড়তা অনুভব করতাম আর্মিতেই - ট্রেঞ্চে, টানেলে , তাবুতে, বাঙ্কারে আমার খুব অশস্থি লাগত তখনি আগে যদি জানাতাম টা হলে মেডিক্যাল বোর্ড গিয়ে সব বেবস্থা করতে পারতাম = কিন্তু ফাঁক ফোকর সব সময়ই কম বুঝতাম

মনে মনে সিদ্ধান্ত নিলাম - ইতিহাসে এম পরীক্ষা পাশ করবো - তার পড় এই বি থেকে এম বি টা করবো টা না হলে সিলেট যেয়ে দোস্ত আমার এহসান কে বলব - লন্ডন যাবো আবার সবে ডক্টরেট

শেষ মেশ কর্নেল কে বললাম - স্টোরে আমার পোষাবে না ; রাতে ওর গুলশান ৬১ নম্বর রোডের বাসায় ড্রিঙ্ক এর জন্য আস্তে বলল বেশ জমে গেল ওনার সাথে এক ধরনের বন্ধুত্ব জানিনা এখন সে কোথায়  

তখনি বুঝলাম যে, আমার একটা ভালো গুন আছে বিদেশীদের সাথে সখ্যতা গুড়ে তোলার মত  

তাই, অবসারভাএর বিজ্ঞাপনটা দেখেই ফোন ঘুরালাম - ২৫ অথবা ৪০ নাম্বার থেকে আমলে গুলশান বনানীতে রিং করে লাইন পাওয়ার আগে হেঁটেই অনেক সময় সহসা পৌছা যেত তখনকার ঢাকা শহরে

তিন ধাপে মিটিং এর পড় চতুর্থ বারের বার গেলাম ওর অফিসে - প্রথম সাক্ষাত হলও ভিডিও কানেকশন ওখান থেকে গেলাম রোজ গার্ডেন রেস্ত হাউসে  ওখানের পড় দেখা করলাম লা ব্যালে নামক এক হেয়ার ড্রেসিং সেলুনের ওয়েটিং রুমএ ওখান থেকে অফিসে

সব সময় ফায়সালা জারি ছিল ফারাকের একটু একটু মুচকি হাসলাম যে, এক সময়কার শিকারি আজ শিকারে পরিণত হয়েছে  

গরমে বারান্দায় দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে এইসব অসংলগ্ন সব কিছু ভাবতে ভাবতে কখন যে হাতের সিগারেট জ্বলতে জ্বলতে আঙ্গুলের কাছে এসে গেছে তা ঘুণাক্ষরেও মনে নেই

এস্ত্রে তে সিগারেট নিভিয়ে ভাবতে লাগলাম আবার - হাঁটতে হাঁটতে শিতাতাপ নিয়ন্ত্রিত বারে ঢুকলাম - কয়েক টা টেবিলে ছয় সাত টা কাঁপল এবং আরও পাঁচ ছয় জন প্যাসেঞ্জার ছুটিয়ে গরমের তাণ্ডবটাকে নিরাময় করতে ঠাণ্ডা হানিকেন বিয়ার পান করছে ; সবার হ্যাটেই বিয়ার আর গপ্লে মশগুল - একদম শেষ টেবিলে বসে বসে  আধো আলো আধো আঁধারে ইন্টারন্যাশনাল হেরালড ত্রিবুইন পড়ছে আমার যাত্রা সঙ্গী নামটা না হয় না বললাম  আজ  

আমাকে দেখে উঠে বসতে বলল ওর টেবিলে - বেশ একটা কঠিন হ্যান্ডসেক  করল হ্যালো, ইউ ওকে প্লিজ সিট দাউন

বললাম চেক ইন করা শেষ নাকি - বলল মালিশ - অর্থ টা আসলেই কি এখনো বুঝি না   ওকে দেখেছি কয়েক বার মনে হয় বাবু জাতীয় কিছু একটা করে ( বাবু - ক্লার্ক ) বসে অল্প কিছু কথা বলতে বলতেই টেনয় ঘোষণা আলো প্লেনে উঠার  


 বোর্ডিং কার্ডে আমি এক আইলে ওর আইল অনেক পিছনে - ভদ্র লোক সে এক জন - নম্র এবং খুব কেন জানি সমীহ করে আমাকে - আমার চাকরী ডাটা চারদিন আগে বিদেশ - সিঙ্গাপুরে গিয়েছিল ওখান থেকে হঠাৎ মেসেজ আসল আমাকে নিয়ে বম্বে যেতে - এক দিনের ভিতর পাসপোর্ট এবং ভিক্টরি ট্র্যাভেল আমিন কোর্ট থেকে সঙ্গে সঙ্গে টিকেট এসে গেল একটা ছোট লাগেজ আমার তিন দিনের জন্য যাচ্ছি মাত্র  

প্লেন ছাড়ল মাথায় বন বন করে চিন্তা গুলো উকি ঝুঁকি মারছে - হটাৎ কেন আমাকে ডাকা হলও    মাত্র মাস ১২ - ১৩ দিন আমার চাকরীর বয়েস - রেফেরেঞ্চ যাদের নাম দিয়েছিলাম তাঁদের কে জিজ্ঞেস করে নাই - এখনো - অথচ বিদেশে ভ্রমণে যাওয়ার জন্য তলব ? কোন কিছুই দুই দুইয়ে মিলাতে পারছিনা অসংলগ্ন - ইতিমধ্যে মগবাজারেরও ফোন করে লাইন পেলাম না দুই দিন যাবত পড়ে একটা ছোট্ট চিরকুট পাঠিয়ে দিয়েছিলাম আবুল কে দিয়ে ; বগুড়ার আমল থেকেই সঙ্গে সঙ্গে আছে আবুল - বেশ বিশ্বাসযোগ্য  

তিন ঘণ্টার ফ্লাইট - ছয় টা সাড়ে ছয়টা বেজে যাবে বম্বে তে পৌঁছেতে এই ফাঁকে একটু ঘুমিয়ে নেই না কেন - যা বলা তাই কাজ - ল্যান্ডিং এর আওয়াজে ঘুম ভাঙ্গল শান্তাক্রুয - মাসুদ রানা বৈতে পরেছি অনেক বার - এই প্রথম বম্বে তে - আমার এক ধরনের স্বপ্নের শহর   এম্বাসেডর ট্যাক্সি তে আমারা দুইজন সন্ধ্যার ট্রাফিক গিজ গিজ করছে বম্বে  

জুহু তাঁরা রোডে রয়েল গার্ডেন সে থামল ট্যাক্সি সুটকেস নিয়ে প্রবেশ করলাম - কারও পিছনে হাঁটতে আমার কখনোই ভালো লাগে না - তবুও হাঁটলাম ১০ কদম এর মত কন্সিয়ারজে প্রবেশ করে রুমের চাবি নিলো দুই জনার জন্য লিফটে উঠে পাশাপাশি দুই রুমে আমরা দুজন বলল বস এই হোটেলেই এই ফ্লোরে আরেকটা রুমে আছেন - ডিনারে দেখা হবে রাত্র :৪৫   লবিতে

একটা ফার্স্ট ক্লাস শাওয়ার করে ফ্রেশ হয়ে দুরে তাকিয়ে অবলোকন করতে লাগলাম আরব সাগর কেরাতের বম্বে অপূর্ব গ্লিতযি - নিওন বাতির বিল বোর্ড - অপূর্ব সুন্দরি মহিলাদের মডেলিং শাদা ধপধপে দাঁতের সর্ব দন্ত বিকশিত হাঁসি - দারুণ প্রাঞ্জল , সাগরে মনে হলো উচ্ছোষিত আলো বিকিরণ করছে বেশ বেশ বড় বড় প্রমোদ তরি (ইওত )  

মস্তিষ্ক এখনো বার বার ঘুরপাক খাচ্ছে কি কারণে আমি  এখানে - এক অজানা সাসপেন্স -( ভয় বলব না ) , থ্রিল, একটা মেলো ড্রমা টিক শিহরন অনুভূত হচ্ছে ভিতরে ভিতরে - ভাবলাম ওরা তো যা তা  লোক নয় - কূটনৈতিক - এদের কাছ থেকে কোন প্রকার ধাপ্পাবাজি আসা করা যায় না

এইসব ভাবতে ভাবতেই টেলিফোন বেজে উঠল - উঠে যেয়ে ধরলাম - হ্যালো বলার সঙ্গে সঙ্গে ওপাশে শুনতে পেলাম সেই পরিচিত গলা - বলল প্লিজ কাম ইফ উই আর রেডি - লবি বার

বললাম ফাইভ মিনিট - এই আম কামিং ডাউঁন ……………………

ভাগ্য ভালো তাড় কইদিন আগে ঢাকা কলেজের সামনে থেকে একটা স্যুট বানিয়েছিলাম - তা না হলে তো একে বারে পউপার  লাগত আজ আমাকে

দাঁড়িয়ে আইনাতে দেখলাম স্টিল লুকিং দ্যা সেম যা দেখে অনেকেই ঈর্ষান্বিত হতো - কেই কেই আবার বলত আমি নাকি অনেক টা হলিউডের নায়ক ‘' গ্রেগরি পেগের মত দেখতে ‘' 

একটা ভিসাছ বঙ্কিম হাঁসি হেসে  হেসে ততক্ষণে লিফট থেকে বের হয়ে এলাম ……




লিফট থেকে বের হয়ে লবিতে দাঁড়িয়ে চতুর্দিকে তাকিয়ে নিলাম একটু ভালো করে - ডান দিকে মেইন গেঁটের বা পাশেই দেখতে পেলাম রয়েল বার

ধীর পায়ে প্রবেশ করলাম - বেশ আলো আঁধারের খেলা বারে - সেই শেষ মাথায় স্টেজে চলছে লাইভ মিউজিক ঘড়িতে সময় ; ৪৫; ১৭ /১৮ সেকেন্ড কোথাও দেখতে পেলাম না ওনাকে আমার চাকরি দাতা কে

বারের একদম কাছে যেয়ে বারে দাঁড়িয়ে বারে হেলান দিয়ে খুঁজতে লাগলাম ওনাদের কে ; বার টেন্ডার কে বললাম এক গ্লাস অরেঞ্জ জুস ওয়িত আইস দেবার জন্য - হটাত দেখি আমার দিকে তাকিয়ে হাঁত দিয়ে ইশারা করলো এক জন কাছে যেয়ে চিনতে পারলাম ছয় ফুট ইঞ্চি লম্বা একটু বয়স্ক এক ভদ্র লোক আর মস্তাফা আবদাল মাসাবি ( আমার বস- আমার চাকরী ডাতা ) বসে আছে হাঁতে ওয়াইন গ্লাসে মনে হোল রেড ওয়াইন আমার পিছু পিছু ওয়েটআর নিয়ে আসলো আমার ড্রিঙ্ক

 খুব ভালো ইংরেজি বলেন এই ভদ্রলোক ; ক্লিয়ার স্পষ্ট উচ্চারণ - আমি নিজে ওনার শব্দএর মানে বুঝতে পারছিলাম না   অনেক ধরনের প্রশ্ন করলো এবং আমার সম্পর্কে অনেক কিছু জানতে চাইলো খুবই অমায়িক মানুষ টি কথা বলার সময় একটা বিরাট হাসি ওর মুখ টাকে উজ্জ্বল করে ফেলছিল ; মস্তাফা চুপ করে আস্তে আস্তে ওর গ্লাসে মৃদু সিপ দ্বিত্বেই থাকলো   বেশ কাছে টেনে নিলো উনি ওনার বন্ধুত্ব সুলভ আপ্যায়নে তখনো ভিতরে ভিতরে ছট ফট ছট ফট করছি - কেন আমাকে এখানে ডেকে আনা হল - কি এমন সিরিয়াস ব্যাপার যেটা ঢাকায় বলে গেল বা যেত না আমার সঙ্গে যে এসেছিল তাড় টিকিটিও দেখলাম না কোথাও  
পরিচয় পর্বে বুঝলাম নতুন অতিথি ওদের দেশের আর্মির মিলিটারি একাডেমী জাতীয় একটা অরগানাইজেসন এর প্রধান প্রিন্সিপাল

বিভিন্ন দেশ থেকে ওরা প্রাক্তন অফিসার দেড় কে ওদের দেশে নিয়োগ করছে - ওদের দেশের অফিসার এবং সৈনিকদের কে প্রশিক্ষণ দেওয়ার জন্য রাশভারী ভদ্র লোক বেশ উঁচু রাঙ্কের অফিসার মনে হোল - ওরা একজন আরেক জনের সাথে অভদ্রের মত আমার সামনে অনর্গল ওদের ভাষায় কথা বলতেই থাকলো - ব্যাপার টা  আমার কাছে অতি শ্রুতি এবং দৃষ্টি কটুর মনে হচ্ছিল   যা বুঝলাম ভারতে ওরা কয়েক জন কে নির্বাচিত করেছে - কিন্তু ওরা সোজা চ্যানেল না এসে কেন এই ধরনের লুকোচুরি কেনই বা করতে চাচ্ছে তারপর আবার এটাও ভাবলাম সরকারী চ্যানেলে গেলে সব নিজস্ব রদ্দি মার্কা পেয়ে যেতে পারে - স্বজন প্রীতির তো আর  কোন শেষ নাই

জিজ্ঞেস করলো আচমকা আমার জীবনের এইম কি এখন এই মুহূর্তে বললাম - আমি এখনো পুরাপুরি সিধান্ত নেই নি   উলটা প্রশ্ন করলাম - আমি কি জানতে  পারি  কেন আমি এইখানে  ? এবার মস্তফা মুখ খুললো  ‘' বলল আমরান , তোমার একটা বাংলা থেকে ইংলিশ অনুবাদ আমি পাঠিয়েছিলাম - তোমাকে যে বাংলাদেশের রাজনৈতিক দল গুলোর উপর একটা বাংলা বই এর অনুবাদ করতে দিয়েছিলাম - ওটা উনি কোন  না কোন ভাবে দেখেছেন এবং তারপর আমাকে দিল্লিতে ওনার সাথে দেখা করতে বললেন এবং তোমাকে এখানে নিয়ে উনার সাথে পরিচয় করাবার জন্য বললেন - তখনি আমি ঢাকায় যোগাযোগ করে তোমার মতামত জানতে বললাম  - তুমি আসতে রাজী হওয়ায় আমরা দিল্লী থেকে বম্বে তে দুই এক টা আরও ইন্তেরভিউ নিয়ে তোমার জন্য অপেক্ষা করছিলাম তুমি এসে পৌছার জন্য আরও বলল যে, ওদের এই বস ঢাকার চেয়ে বম্বে ওয়েদার পছন্দ করেন বেশি তাই এখানেই দেখা হবার বেবস্থা করলাম হোপ ইউ আর ওকে আবাউট ইট ? মাথা নেড়ে সম্মতি দিলাম


তারপরও আমি বুঝতে পারছিলাম না - আমাকে দিয়ে ওরা কি করবে   আমি কেন এখানে ? ইচ্ছে করেই নিজের অস্থিরতা টাকে ওদের বুঝতে দিচ্ছিলাম না এবার খুব ইচ্ছে হল একটা সিগারেট খাবার পকেট থেকে প্যাকেট টা বের করে ওদের দুই জনকেই অফার করলামনতুন জন একটা নিলেন - মস্তাফা সিগারেট পান করেন না - নাকি করেন আমি জানতাম না সে নিলো না - অতিথি কে প্রথমে অগ্নিসংযোগ করে নিজের টা ধরিয়ে আস্তে আস্তে দু টা ফু দিয়ে তাকালাম নবাগত অতিথির দিকে সেও দেখলাম মনের সুখে কয়েক টা টান মেরে যাচ্ছেন কেমন যেন মনে হোল - হি ইয এন অ্যামেচার স্মকার একটু হাসি পেল সিগারেট পান করা সব সময়ই আমার কাছে ছিল একটা স্টাইল স্টেটমেন্ট তাই ওর স্টাইল দেখেই ধরে ফেললাম


 খুবই সুন্দর গলা ওয়ালা এক মহিলা  গেয়ে উঠল , ''চুরা লিয়া হে ……… তুম্নে যো দিল কো……’'   মনের অজান্তেই এক ঝলক হৃদয়ের  পর্দায় ভেসে উঠল  টাইমলেস  বিউটি কুইন জিনাত আমানের সেই অবয়ব খানা - আমার ওল টাইম ফেভারেট সিলেটের মিউজিক বারে কত শত বার  যে শুনেছি আর ফাতেহ’  যে কত কপি  যে কপি /রেকর্ড  করেছে  তার হিশেব নাই ; সহসা মনে পড়লো সেই সকল অতি চেনা মুখ গুলো গানের মাঝে হারিয়ে গিয়েছিলাম কয়েক সেকেন্ড বা কয়েক মিনিটের জন্য - নিজের অজান্তে - প্রশ্ন কর্তার কথায় বাস্তবে ফিরে এলাম - ইয়াদুন কি বাড়াত ছবির কল্পনার জগত থেকে……

শো, লেফটেন্যান্ট - মে আই আস্ক ইউ সাম থিং ? বললাম , বাই ওল মিন্স স্যার। প্লেজার ওয়িল ওল বি মাইন
কয়েক সেকেন্ড থেমে সে বলল - ওয়িল ইউ জয়েন মাই টিম ইন মাই কান্ট্রি ? এজ টিচার টিচিং ইংলিশ / মিলিটারি হিস্ট্রি - টু দে ক্যাডেটস। আই শ্যাল এক্সপ্লেন মোর ইফ ইউ এগ্রি -  

ভ্যাবাচেকা খেয়ে গেলাম ; সেই ৩০ বছর এই প্রথম বলছি আর লিখছি কিন্তু এখনো গায়ের লোম শিহরে উঠে সেই মুহূর্ত টার কথা মনে করলে থমকে  গেলাম আনন্দে বিহ্বল আশ্চর্যে আচম্বিত - উল্লাসে খানখান হবার প্রায় অবস্থা মেঘ না চাইতেই যেন বৃষ্টি চিমটি কেটে উপলব্ধি করতে ইচ্ছে করছিলো আদৌ কি আমি প্রকিতস্থ  আছি কি না  


নির্লিপ্ত একটা ভাব দেখালাম - বললাম আই হেভ টু থিংক স্যার - আই এম ওভার হয়েল্মড কিন্তু কিভাবে যাবো - সরকারী ভাবে না বেসরকারি ভাবে - তারপর যদি অন্য কাজে নিয়োগ করে ? কি বিশ্বাস এদের কে

ম্যান পাওয়ার মন্ত্রণালয় ছাড়পত্র এইসব আমলাতান্ত্রিক বিষয় নিয়ে অযথা ভাবতে লাগলাম কয়েক মিনিটের মধ্যেই - তারপর ভাবলাম - এইডা বাংলাদেশ কে কার খোঁজ রাখে - বন্ধু রশিদ রাত দিন গলা কাটা - নকল - চোরাই - পাসপোর্ট দিয়ে মানুষ লন্ডন - আমেরিকা - দুবাই - কাতার - কুয়েত- রাশিয়া - বেলজিয়াম পাঠাচ্ছে - কোন দিন তো কোন মন্ত্রণালয়ে যেতে শুনিনি - আমার মত চুনোপুঁটির খোঁজ কে বা রাখবে - আর রাখলেই বা কি ডু আই রেএলি কেয়ার


আমি যামু গা - চিন্তা করে ফেললাম মুহূর্তেই

বললাম - ওকে স্যার আই উইল গিভ ইয়োর প্রপোজিশন ট্রাই  


চলবে ..............

Post a Comment