29 January 2017

নদী - River

নদী - বংগ  - আজকের বাংলাদেশ ​- একই সুতোয় বাধা যেন একগুচ্ছ শব্দ 

বাংলা সংস্কৃতি , কাব্য,লোকজসঙ্গীত, কবিতা,পুঁথি,কবি গান,ভাওয়াইয়া , পল্লীগীতি, ভয়, ভীতি,আনন্দ এই সব কিছুই নদীর উপস্থিতির সাথে অত্যন্ত সম্পৃক্ত। 

আমাদের পূর্ব পুরুষদের সনাতন ধর্মের দেব দেবীদের নাম নামাঙ্কিত করে নাম দিয়েছিলো এই সকল নদী  গুলোর নাম  - যেমন  গঙ্গা,ভৈরব, শীতলক্ষা, যমুনা,ব্রম্মপুত্র, ভাগীরতি, মহানন্দা,ধলেশ্বরী , বুড়া গৌরাঙ্গ যদি।  

কে দিয়েছিলো এই সকল নাম গুলো ? কেন দিয়েছিলো এই সকল পরম পূজনীয় নাম ? নদী আর বাংলার প্রথম বসতি স্থাপনকারী পূর্ব পুরুষেরা কি কারণে বেঁচে নিয়েছিল শতকরা ৯০% নদীর নাম দেবতাদের নামে ?

নিশ্চয় তাদের নিকট মনে হয় এই বহমান জলরাশি ছিল খুবই পবিত্র - নদীকে মনে হয় আমরা বাঙালিরাই একমাত্র জাতি যাঁরা আজও পারি নাই জয় করতে - আজীবন আমরা বেঁচে আছি এই নদীর পাড়ে বসতি স্থাপন করে নদীর মার্জনায়।  নদীকে ব্যবহার করতে মনে হয় পারি নাই বা- পারি নাই  আমাদের অনুগত করতে।  বান, বন্যা,নদী ভাঙ্গন, স্রোত, চড় ,অতিরিক্ত পানির প্লাবন,শুস্ক মৌসুমে অপ্রতুল পানি এই সব ই যেন বাংলীদের জীবনের সবচে আলোচিত বিষয়। 

বাঙালী জীবনের একটা বিরাট অধ্যায় এই সব নদী - নদীর পাড়ের নিকট কুড়ে ঘর বানিয়ে কেন আমাদের পূর্ব পুরুষেরা বেঁধেছিলো আবাসন তা আজও ঠিক মতো বুঝে উঠতে পারি না - কি ছিল মোহো ? কেন তারা পাহাড়ের পাদদেশে বা উঁচু জমিতে বসতি গড়ে তুললো না ? 

যুগের পরিক্রমায় আমরা সেই পূর্ব পুরুষদের পবিত্র জলরাশিকে অত্যাচার, অনাচার, অবহেলা, নিগৃহীত করে এই গুলোকে রূপান্তরিত করতে বসেছি ময়লা,আবর্জনা, বর্জ্য ও পয়: নিষ্কাশনের প্রধান প্রণালী হিসেবে। 

দেবতার নাম নামান্নিত নদী  ;  আজ নিরুপায় উর্দ্ধশ্বাসে ছুঁটে  চলেছে বিলুপ্তির অগস্থ যাত্রায়। ওঁরা কি রাগান্নিত ? ক্ষুব্ধ;?গোস্বা ? জানতে পারতাম যদি একদা। ..............

Post a Comment