20 February 2015

OUT OF BOUND : নিষিদ্ধ যাতায়াত

নিষিদ্ধ যাতায়াত 

 ৭১ এর মার্চের সেই উত্তাল দিনগুলো আজও বার বার ভেসে উঠে মনের দহলিজে। বঙ্গবন্ধুর সেই অগ্নিঝরা উদ্দাত আহ্বান;
সারা দেশে অসহযোগ আন্দোলন- বয়েস অনেক কম কিন্তু -  ১৯৪৬ - ৪৭ - ৫০ তে যার মা সর্বভারতীয় কমুনিস্ট পার্টির সদস্য ছিল  এবং '৪৯ সালে কলকাতা জেলে কয়েকদিন যার কাটাতে হয়েছিল। জেলে বসেই মাট্রিক পরীক্ষা দিতে হয়েছিল ; সেই মায়ের সন্তান এবং সেই পরিবার এ রাজনীতি ছিল একটা নিত্য দিনের আলোচনার প্রধান অধ্যায়। 

সেই খানেই হাতে খড়ি - সেই উত্তাল ৭১ এর দিনগুলোতে যখন এ সুযোগ  পেতাম ভাইজানের সাথে চলে যেতাম মিছিলে আর মিটিং এ ; ব্রাহ্মণ বাড়িয়ার সেই রাজ্নয়্তিক পরিমন্ডল - ছাত্র নেতা হুমায়ুন ভাই- লুত্ফর সাচ্চু, আলী আজম, প্রমুখ দের বকতব্য শুনতাম হিজ মাস্টার ভয়েজের সেই লোগোর মত বসে বসে। 

টি এ রোড , কোর্ট চত্তর, জগত বাজার, কান্দির পার হেটে হেটে সেই ১০ বছর বয়েসেই চষে বেরিয়েছি - চোখে স্বপ্ন, মুখে মুখে স্লোগান, এই ভাবেই হঠাথ সকাল বেলা জানতে পারলাম ২৫ সে মার্চের সেই কালো রাতের মহা প্রলয়ঙ্করী হত্তাযোগ্গের  গল্প। 

চারিদিকে যুদ্ধের দামামা - থমথমে এক বিকট পরিবেশ - আসে পাশের সবাই আস্তে আস্তে রাতের আধারে শহর ছেড়ে কথায় যেন হারিয়ে গেল - সাহসী যারা তারা  তীর - ধনুক- তলোয়ার - কুইচ - বল্লম নিয়ে তৈরী হতে শুরু করলো ডিফেন্স পার্টি। সে এক ভিন্ন ধরনের উনুভুতি- হুমায়ুন ভাই, ইকবাল দাদা, আওলাদ দাদা ভীষণ ভাবে গম্ভীর হযে গেল রাতারাতি।  প্রশাসন চালায় ওরা আর বড় বড় নেতারা ; এস ডি ও - মাজিস্ত্রেট দের কোনো খানা নাই.

কুমিল্লা থেকে আর্মি যাতে না আসতে পারে সাথে সাথে কুর্রুইল্ল্লা খালের  ব্রিজ আর  রাস্তা এক বিশাল গর্ত ; যাতে করে আর্মির গাড়ি সোজা চালিয়ে চলে আসতে না পারে - যেমন করেই হইক ব্রাহ্মন বাড়িয়া শত্রু মুক্ত রাখবে ওরা। 

সকলের অগোচরে - কমার্শিয়াল রোডে দেখা দিল - এক বিশাল আর্মির গাড়ির বহর - প্রথমে মানুষ ভিত সন্ত্রস্থ - এরা এই পথে -  কেমনে পশিলো রাক্ষস পতি ? 

বীর দর্পে বাহুতে  বেঙ্গল টাইগারের সেই বিশাল হা করা মুখের  ছবি ( ১৪ ডিভিসন পাকিস্তান আর্মির ফর্মেসন সাইন ) আর স্কন্ধে লেখা "ইস্ট বেঙ্গল " আমার গায়ের লোম আজও শিহরিয়া উঠে। 

মৃদু পায়ে নেমে এলেন এক চিজেল মুখ সমৃদ্ধ বিশাল এক লম্বা মানুষ ( সেই বয়েসে সবাই কেই মনে হত অনেক লম্বা )
অবাক রাস্তার দুই পাশে দাড়ানো বিচলিত মানুসের মাঝে দাড়িয়ে কথা বললেন -

গগন প্রকম্পিত শ্লোগান আসতে সুর করলো 

ব্রাহ্মন বাড়িয়া স্বাগত জানালো সেই ফোর ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের ত্রাণকর্তা দের 
এ এক ভিন্ন উনুভুতি- ভাষায় বর্ণনা দেয়া অসম্ভব 

তারপর বাকি কয়েক টি দিন স্বপ্নের মত কেটে গেল 
সব বাসায় বাসায় বাঙ্কার খুড়া , আকাশ থেকে বিমানের গুলি ও গোলা  থেকে  বাচার জন্য বাংকারে ছাদ বানানো - মেতে উঠল সবাই - ইস্ট বেঙ্গল এর সেই দল এর নেতা মেজর খালেদ মোসারাফ। 

২২ জন পাকিস্তানি - বিহারী- ইপিআর - পাঞ্জাবিদের গণ পিটুনিতে ওগ্গা পেতে হলো- সেই উগন প্যারেড সেট বেঙ্গলের ত্রান কর্তারা মনোবল ফেরানোর জন্য করেছিল- ভাইজান বললেন পরে।  

ইতি মধ্যে উনি আসবার আগে আমরা রেডিওতে শুনলাম 
আমি মেজর জিয়া বলছি সেই 
অমোঘ বাণী-
সাধীনতা যুদ্ধে ঝাপিযে পরার আদেশ 

আজ মনের সেই সৃতিতে বার বার ভেসে উঠে সেই বজ্র কঠিন আওয়াজ 

আজও মনে পরে সেই আহ্বান কি ভাবে দিক নির্দেশনা দিয়ে ছিল - ইপিয়ার , পুলিশ, আর্মির  মানুষদের - আর ঠিক  তার পর পরেই মেজর খালেদ এর আগমন। 

সেদিন সেই অল্প বয়েসে যা দেখেছিলাম 
জনগণ কিভাবে ইস্ট বেঙ্গলের মানুষ গুলোকে আপ্পায়ন করেছিল, তাদের উপর কি পরিমান আস্থা, কি পরিমান সাহস সেই অল্প কয়েক শ সেনানী যুগিয়েছিল - অবিশ্বাস্য। 

তা দেখেসেই নিজের অজান্তে নিজে নিজে প্রতিগা করলাম যখন বড় হব 
আমিও ইস্ট বেঙ্গলে যোগদান করব.........
চলবে।........
Post a Comment